নিজস্ব সংবাদদাতা
বর্ধমান, ৫ই জুলাই — বর্ধমান সদর থানার পুলিস আদিবাসী ধর্ষিতা মহিলাকে ভয় দেখিয়ে অসত্য কথা লিখিয়ে নিয়ে দোষীদের আড়াল করতে চেয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বর্ধমান সদর থানার ভিটে খরিদ্দা গ্রামে রাতে ওই মহিলা যখন রান্না করছিলেন তখন তাঁকে ৬জন দুষ্কৃতী চ্যাংদোলা করে বাড়ির পিছনে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। তখন তাঁর স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। ছিল ছোট ছেলে-মেয়ে। তারপর ওই মহিলার দুটি পা ও দুটি হাত চার জন দুষ্কৃতী ধরে রাখে। অন্য দুষ্কৃতীরা তাঁর সাথে পাশবিক আচরণ করেছে বলে অভিযোগ। অবশ্য পুলিস অসত্য বয়ান লিখে স্রেফ শ্লীলতাহানির চেষ্টা বলে ওই আদিবাসী গৃহবধূকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরে গ্রামের মানুষের কাছে তিনি বলেছেন, তাঁর উপর পাশবিক অত্যাচার হয়েছে। কিন্তু পুলিসের লেখা বয়ানে আছে ওই গৃহবধূকে চারজন মিলে ধরে রেখেছিল কিন্তু লাঞ্ছিত মহিলা তাঁদের হাত থেকে পালিয়ে এসেছেন! কেন তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষা হলো না? বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এখনো গুরুতর অসুস্থ ওই মহিলা।
ওই লাঞ্ছিত মহিলা শুধু আদিবাসী গৃহবধূ নন, তিনি ছিলেন রায়ান-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্যা ও সি পি আই (এম) কর্মী। তাঁর উপর এই পাশবিক অত্যাচারের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ। পুলিস একজন দুষ্কৃতীকেও ধরতে পারেনি। অথচ ওই দুষ্কৃতীরা আলো বন্ধ করে এই মহিলার উপর অত্যাচার করেছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিসের এই ভূমিকায় রীতিমত ক্ষুব্ধ রায়ান-২ পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ। তারা বলছেন, প্রকৃত নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অপরাধী কারা তা জানা যাবে। কিন্তু পুলিস সেই পথে না হেঁটে শাসকদল ও অপরাধীদের আড়াল করতেই ব্যস্ত।
- See more at: http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=43271#sthash.sKtqGfGE.dpuf